Saturday, May 15, 2021
Home রাজ্য পুরুলিয়া-বীরভূম-বাঁকুড়া সরকারি নির্দেশিকা অমান্য, বাঁকুড়া জুড়ে রমরমিয়ে চলছে গৃহ-শিক্ষকতা।

সরকারি নির্দেশিকা অমান্য, বাঁকুড়া জুড়ে রমরমিয়ে চলছে গৃহ-শিক্ষকতা।

সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গৃহশিক্ষকতা করা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ তার নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা টিউশন করতে পারবে না কিন্তু সরকার নির্দেশিকা অমান্য করে বাঁকুড়া কোতুলপুরে কয়েকজন স্কুল শিক্ষক টিউশান করছেন।

সোমবার দুপুর নাগাদ যে সমস্ত ছাত্ররা স্কুল শিক্ষকদের কাছে টিউশন পড়ে তারা আজ কোতুলপুর বিডিও অফিসে এ-আই এর কাছে একটি ডেপুটেশন দেয়ার চেষ্টা করেন যদিও এআই দেবদুলাল বাবু বলেন,”এদের ডেপুটেশন কোনমতেই কাম্য নয়ই আর গ্রহণযোগ্য ও নয়। এই ডেপুটেশন কে আমি সমর্থন করি না”। এই কথা শুনে কিছু ছাত্র দীর্ঘক্ষন ধরে অফিসের সামনে ধরনা দেয়।

অবস্থা বুঝে দেবদুলা ধর্ণারত পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠান।কিন্তু অভিভাবকরা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি। পরে এআই সাহেবের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা যায় যার জন্য এ আই সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন কোন সহকারী শিক্ষক আদৌ কি টিউশনি করতে পারবেন?

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এদিন এ আই দুলালবাবু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা কোনোভাবেই টিউশন করতে পারবেন না। অপরদিকে যেসব ছাত্রছাত্রীরা ওই মাস্টারদের কাছে টিউশন করেন তারা চাইছে আর চার মাস যাতে পড়ানো হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা বাঁকুড়ার ডিএম অফিস থেকে পরিষ্কার মুচলেকা চাওয়া হয়েছে কোতুলপুর এর কয়েকটি স্কুলের কাছ থেকে যেমন গত সোমবার জেলা বিদ্যালয় পরিষদ একটি নির্দেশিকা জারি করেন, তাতে ডোমাঞ্চক হাই স্কুল, ইসমাইল চক জুনিয়র হাই স্কুল, কোতুলপুর হাই স্কুল, আউশনারা হাই স্কুল, শান্তাশ্রম হাই স্কুল, সিঙ্গার পুর হাই স্কুল, ভগলপুর আর কে হাই স্কুল, মঙ্গলপুর হাই স্কুল, তাজপুর হাই স্কুল, মদনমোহন পুর এস কে বি ডি হাই স্কুল, কোনকেশরী হাই স্কুল, হেতিয়া হাই স্কুল, পানুয়া কবি চন্দ্র হাই স্কুল, রাম ডিহা হাই স্কুল, হিজুলিয়া বিদ্যামন্দির ও মির্জাপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।ওই নির্দেশিকায় বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার নাম সহ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।সেইসঙ্গে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গৃহশিক্ষকতা করা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ তার নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে গৃহ শিক্ষকরা।

পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির বাঁকুড়া জেলার সেক্রেটারি ফিরোজ মোল্লা বলেন ডেপুটেশনের পরিপেক্ষিতে স্কুল শিক্ষকদের প্ররচনা রয়েছে ,সরকারি স্কুলের পঠন পাঠন শেষ হয়ে গেছে এবং যাদের টাকা আছে তারা আটটি নটি টিউশন নিতে পারছে, আর এক শ্রেণীর পিছিয়ে পড়ছে যারা স্কুলের উপরে নির্ভরশীল। বেকার ছেলে মানেই এই নয় যে কিছু জানে না বেকার থেকেই কিন্তু সহকারী শিক্ষক তৈরি হয়।স্কুল শিক্ষকরা টিউশন বন্ধ করলে সমাজের উচ্চ শিক্ষিত একশ্রেণীর মানুষ উপকৃত হবে ও কম বেতনে পড়লে অভিভাবকরা উপকৃত হবে।

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

× How can I help you?