Saturday, October 16, 2021
Home রাজ্য রাজ্যজুড়ে খুললো স্কুল,কোথাও নির্বিঘ্নে ক্লাস,কোথাও পড়ুয়ারাই রাস্তায় বসে অবরোধে সামিল।

রাজ্যজুড়ে খুললো স্কুল,কোথাও নির্বিঘ্নে ক্লাস,কোথাও পড়ুয়ারাই রাস্তায় বসে অবরোধে সামিল।

খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের খেজুরি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ফটক বন্ধ থাকায় স্কুলে ঢুকতেই পারল না পড়ুয়ারা। দীর্ঘ সময় ছাত্রছাত্রীরা অপেক্ষা করে। স্কুলেগেট না খোলায় তারা খেজুরি হেড়িয়ার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা মহামারি পেরিয়ে প্রায় এক বছরের মাথায় খুলল স্কুল।শুক্রবার স্কুল খুলতেই আনন্দের আবহ পড়ুয়াদের মধ্যে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু শুক্রবার থেকে। তবে আনন্দের আবহ সর্বত্রই এক হল না। কোথাও নির্বিঘ্নে ক্লাস হল আবার কোথাও বনধের জেরে খুলেও বন্ধ হয়ে গেল স্কুল। কোথাও আবার স্বয়ং পড়ুয়ারাই রাস্তায় বসে অবরোধে সামিল।

রায়গঞ্জের সুদর্শনপুর দ্বারিকপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্রের ক্লাস প্রথমদিনের প্রথম লগ্নেই বিঘ্নিত হল। রায়গঞ্জ চারমাথার মোড়ে বাম সমর্থকেরা বনধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। স্কুলটি ওই মোড়ের কাছেই। স্কুল খোলার পরেই কয়েকজন বনধ সমর্থক স্কুলের প্রধানশিক্ষককে স্কুল বন্ধ করার অনুরোধ করেন। ছাত্রযুবদের স্বার্থরক্ষার জেরে যে বনধ সেখানে স্কুলপড়ুয়াদেরও সামিল করার পরামর্শ দেন তাঁরা। যদিও তাঁদের কথায় সায় দেন না প্রধান শিক্ষক। তিনি স্কুল খোলার প্রথম দিনেই স্কুল বন্ধ করার অনুমতি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। বনধ সমর্থকেরা ফিরে যান তাঁর কথা শুনে।

দীর্ঘদিন পরে স্কুল খোলায় হুগলিতে বেশ খুশি পড়ুয়া ণঅভিভাবকেরা। আনন্দের আবহ দেখা গেল হুগলি কলেজিয়েট,বালিকা বাণীমন্দির, ডানকুনি চাকুন্দি হাইস্কুল অথবা শ্রীরামপুর শিশুতীর্থে। সর্বত্রই প্রথমদিনের ক্লাস হল সমস্ত নিয়ম মেনে নির্বিঘ্নে।

শিক্ষা দপ্তরের বেঁধে দেওয়া কোভিডবিধি মেনে পড়ুয়াদের বেঞ্চে বসানো হয়েছিল। মাস্ক স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হুগলি কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন গোস্বামী জানান,’সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস করানো হবে। মাস্ক স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক। স্কুলে আসার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের অভিভাবকের অনুমতিপত্র দেখাতে হবে’।

কিন্তু আনন্দের এই ছবিটা অবশ্য একটু টোল খেয়ে গেল খেজুরিতে। খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের খেজুরি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ফটক বন্ধ থাকায় স্কুলে ঢুকতেই পারল না পড়ুয়ারা। দীর্ঘ সময় ছাত্রছাত্রীরা অপেক্ষা করে। স্কুলেগেট না খোলায় তারা খেজুরি হেড়িয়ার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে।

এদিকে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই উত্তেজনা মালদহে। চাঁচোলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনকে কেন্দ্র করে ছড়াল তুমুল উত্তেজনা। বনধ সমর্থকদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় স্কুলের পড়ুয়ারা।

বনধ সমর্থকরা চাঁচোলের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পাশাপাশি সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনও বন্ধ সফল করতে গেলে বাধা পান। বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও। ঘটনাস্থলে আসে চাঁচোল থানার পুলিস। পুলিসের অনুরোধে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও প্রথমে বাধা পায় পড়ুয়ারা। যদিও পরে পড়ুয়াদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়।

বাঁকুড়ার সোনামুখী শহরের বি জে হাইস্কুল সহ শহরের অন্যান্য স্কুলগুলিতেও শুরু হলো নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পঠনপাঠন। স্কুল ঢোকার মুখে পড়ুয়াদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয় এবং পড়ুয়াদের মুখে মাস্ক আছে কিনা এই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা নজর রাখেন।

স্কুলের এক ছাত্রী বলে, অনেক দিন পর বই খাতা নিয়ে স্কুলে ঢুকলাম খুব ভালো লাগছে। তবে স্কুল বন্ধ থাকলেও আমাদের অনলাইনে পঠনপাঠন চালু ছিল।

এক ছাত্রর কোথায়,’স্কুলে পড়াশোনা যেটা হয় সেটা অন্য কোন জায়গায় এতটা ভালো হয় না। কি আর করা যাবে করোনায় তো আমাদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল’,’কিন্তু এখন একটাই খারাপ লাগছে স্কুলে এসেও বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করতে পারছি না।

এপ্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোরজ্ঞন চোংরে বলেন,’শিক্ষা দফতরের নির্দেশ মেনে চলছি। স্কুল খোলার আগে গোটা স্কুল চত্বর ও সমস্ত ক্লাস রুম স্যানিটাইজ এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। যাতে ছাত্র ও ছাত্রীদের কোন রকম সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। আজ প্রতিটি ছাত্র ও ছাত্রীদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। এক একটি ক্লাসে দু জন করে পড়ুয়া বসেছে’।

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

× How can I help you?