Saturday, May 15, 2021
Home কলকাতা পালিত হলো বামেদের ১২ঘন্টার বনধ কর্মসূচি,দিনের শেষে 'ক্ষমা' চাইলো CPIM

পালিত হলো বামেদের ১২ঘন্টার বনধ কর্মসূচি,দিনের শেষে ‘ক্ষমা’ চাইলো CPIM

পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ মামলার সিদ্ধান্ত বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:গতকাল নবান্ন অভিযানে পুলিসি নির্যাতনের প্রতিবাদে বামেদের ডাকে আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হল ১২ ঘণ্টার বনধ। বামেদের ডাকা এই বনধে যোগ দিয়েছে কংগ্রেসও। বনধকে সমর্থন জানিয়েছেন আব্বাস সিদ্দিকী।বাম নের্তৃত্ব দাবি করেছিলেন,কোথাও জোর করে বনধ পালন করা হবে না। সিপিআইএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, কোথাও জোর করে আটকানো হবে না মানুষকে বা রাস্তা। সুজন চক্রবর্তীও একইসুরে বলেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনেই বনধ পালিত হবে।

কিন্তু সে কথাকে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখালো বাম কর্মীরা।গোটা রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে।একনজরে দেখুন তার বিস্তারিত বিবরণ।

সকাল 7 টা নাগাদ মৌলালি ক্রসিং এ চলন্ত বাসকে থামিয়ে দেয় বাম কর্মীরা।তাদের বক্তব্য ‘বাস চলবে কেন আজকে?’, সেখানেই জোর করে যাত্রীবাহী বাস আটকে দেয় ধর্মঘটীরা।

বন্ধের সমর্থনে পথে নেমে এন্টালি থেকে মিছিলে যোগ দেন বিমান বসু ও আব্দুল মান্নান।

বনধের সমর্থনে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক শাখায় সকাল থেকেই ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।যাদবপুর স্টেশনের একটু দূরেই ধর্মঘটীরা রেল অবরোধ করে অশোকনগর,গুমা,বারাসাত,হাসনাবাদ,বারুইপুর সহ একাধিক লাইনে ট্রেন অবরোধ করা হয়।কোথাও বা লাইনের উপর গাছের গুড়ি ফেলে কোথাও বা ওভারহেডের তারে কলাপাতা ফেলে।

অশোকনগর চৌরঙ্গীমোড়ে ধর্মঘটীরা গাড়ি আটকে রাস্তায় বসে দাবা খেলে পথ অবরোধ করে।

বর্ধমান আইটিআই কলেজে আজ পরীক্ষা ছিল।তারই পরীক্ষা দিতে গিয়ে বনধে আটকে গেলেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিয়া দেবনাথ।বনধ সমর্থনকারীদের সামনেই হউ হাউ করে কেঁদে বনধ তুলে নেওয়ার আর্জি জানান,কিন্তু শুনল না কেউ।

সকালে স্কুল খুলতেই রায়গঞ্জে করোনেশন স্কুল বন্ধের চেষ্টা বনধ সমর্থকদের।কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তারা পিছু হটে।

চুঁচুড়াতে ছাত্রদের স্কুলে ঢুকতে দিল না ধর্মঘটীরা। স্কুলে এসেও ক্লাস না করে ফিরে যেতে হলো।

ধর্মঘটের দিন বাইক নিয়ে বেরোতেই তুমুল ‘মারধর’,আসানসোলে এক বাইক আরোহী কে।মারধরে জখম হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ডানকুনি মোড়ে সকাল বেলায় বনধের সমর্থনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বাম কর্মীদের।

যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ করা হয় বেশ কিছুক্ষনের জন্য।

একগুচ্ছ বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেও চুঁচুড়া রোডে বাম কর্মীদের অবরোধের ছবিটা ছিল অনেকটা আলাদা।তারা পুলিসের সঙ্গে কোনও বচসায় না গিয়ে মিষ্টি মুখ করায় তাঁদের। তাও আবার চকোলেট দিয়ে।যদিও সেই চকলেট নিতে অস্বীকার করেন পুলিশ কর্মীরা।

বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে বনধের সমর্থনে সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পথ অবরোধ ও মিছিল করে সিপিএমের কর্মী সমর্থকরা । বড়জোড়া বিধানসভার সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বেলিয়াতোড়ে দুর্গাপুর বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে।অবরোধের ফলে রাস্তার দুধারে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে দূরপাল্লার গাড়ি। সমস্যায় পড়তে হয় আমজনতাকে।

নিস্তার পাইনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও।সেখানেও বিক্ষোভে সামিল হোন সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা । বড়জোড়া বিধানসভার সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী জানান বনধ সফল হয়েছে,পাবলিক বাস বন্ধ থাকলেও স্টেট বাস চালানোর চেষ্টা করছে সরকার,কিন্তু সেখানেও অবরোধ করা হচ্ছে।

তবে আজকের এই বনধকে সফল বনধ হিসাবে ই দেখছে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব।বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র জানান,’আজকের বনধে মানুষের যোগদান ছিল যথেষ্ট স্বতঃস্ফূর্ত’।সুজন চক্রবর্তী জানান,’রাজ্য সরকার সমস্ত রকমের চেষ্টা করেছে বনধ বানচাল করার জন্য,কিন্তু মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে এই চালচোরের সরকার তারা আর চায় না’।

প্রসঙ্গত,রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বনধের দিন প্রশাসনকে যথেষ্ট সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।সেই মতোই সকাল থেকেই গোটা রাজ্যজুড়েই প্রশাসনিক সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।যে সমস্ত জায়গায় বনধ সমর্থনকারীরা অশান্তির চেষ্টা করেছিল তার প্রায় প্রত্যেক জায়গাতেই পুলিশ গিয়ে ধর্মঘটীদের হটিয়ে দেয়।

বাম নেতৃত্বের ডাকে ১২ ঘণ্টার বাংলা বন্‌ধের মিশ্র প্রভাব পড়ল রাজ্যজুড়ে। দিনশেষে অবশ্য বন্‌ধের জেরে আমজনতার নাজেহাল পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিল সিপিএম। দিনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিএম পলিটবুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, ”মানুষের অসুবিধার জন্য দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী। তবু সকলে স্বতস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন।” এদিকে কর্মীদের উপর গতকাল ও আজ নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব।

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

× How can I help you?