Wednesday, March 3, 2021
Home রাজ্য পুরুলিয়া-বীরভূম-বাঁকুড়া নির্বাচনে চাই মজবুত সংগঠন, জনসংযোগের লক্ষে বাঁকুড়ায় সেলিম।

নির্বাচনে চাই মজবুত সংগঠন, জনসংযোগের লক্ষে বাঁকুড়ায় সেলিম।

যাঁরা নারদা সারদার টাকা খেয়েছে তাঁরাই জেলের ভাত খাওয়ার থেকে বাঁচতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। দল পালটালেই কি সাধু হয়ে যাবে?

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ সোমবার বাঁকুড়ার ইন্দাসে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন সিপিএম(আই) নেতা মহম্মদ সেলিম। এদিন কার্যত ওই কর্মীসভা থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হল।

এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথম থেকেই বিজেপি এবং তৃণমূলের প্রতি তাঁর সুর ছিল চরা তারে বাঁধা। সেলিম সাহেব তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দঙ্গাবাজ দল বলে কটাক্ষ করেন তেমনই তৃণমূলকেও লুটেরার দল বলে সুর চরান। বামফ্রন্ট আগে ৯টি দল নিয়ে লড়াই করেছে। কিন্তু এখন কংগ্রেস সহ ১৬টি দলের জোট নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে।

সোমবারের জনসভা থেকে মহম্মদ সেলিম বলেন,’সবাই ভেবেছিল বামফ্রন্ট হেরে গেছে মানে এবার বামফ্রন্ট ভেঙে যাবে। কিন্তু আদৌও তা হবে না। আগে আমরা ৯টি দল মিলে ফ্রন্ট চালিয়েছি। এখন কংগ্রেস সহ ১৬টি দলকে নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। যে দল বিজেপি এবং তৃণমূলের ছায়া মাড়ায় না তাঁদেরই বলেছি আমাদের সঙ্গে চলে এস। কেন্দ্র এবং রাজ্য দুটোই লুটেরার দল। এখানে দিদি লুট চালাচ্ছে আর কেন্দ্রে মোদি আরো বড় লুট চালাচ্ছে। কেন্দ্র এনআরসি সিএএ করছে আর এ রাজ্যে দিদি মোদিকে বলছে আমি ডিটেনশন ক্যাম্পের জন্য জায়গা দিয়ে দিচ্ছি শুধু আমার ভাইপোকে বাঁচিয়ে দাও”।

সারদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়, অর্জুন সিং এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। ‘যাঁরা নারদা সারদার টাকা খেয়েছে তাঁরাই জেলের ভাত খাওয়ার থেকে বাঁচতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। দল পালটালেই কি সাধু হয়ে যাবে? দিল্লিতে বিজেপির লুটের গোডাউন রয়েছে। এখানে তারই শো-রুম তৃণমূল। এখন এই শো-রুম থেকে লুটেরাদের নিয়ে গিয়ে দিল্লির গোডাউন ভরাচ্ছে। আমরা এটা চলতে দেবনা। মানুষ এর জবাব দেবে।

এদিনের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় কৃষিবিলের উদ্যেশে তিনি বলেন,”কেন্দ্র কৃষক বিরোধী বিল এনেছে। তার প্রতিবাদে দিল্লিতে লক্ষ লক্ষ কৃষক আন্দোলন করছেন। এক লাখ ট্রাক্টর নিয়ে কৃষকরা মিছিল করে বুঝিয়ে দিয়েছে কাদের জোর বেশি”। অন্যদিকে তৃণমূল মুসলিম প্রধান এলাকায় গিয়ে নাটক করে বলছে বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। আবার তলে তলে ওদের সাথেই আঁতাত করছে। আমরা এতদিন কোনো জাতি বিভেদের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিই নি। বিজেপির উত্থান হয়েছে তৃণমূলের হাত ধরে। আমাদের মিলিত শক্তি মানুষের প্রতিবাদে এবার সেই হাত ভাঙবে। আমদের সময় রাজ্যে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ চাকরির বেতন পেত। এখন পাচ্ছে সড়ে ৪ লাখ। বাকি ৩ লাখ কোথায় গেল? পোস্ট আছে লোক নেই। এর নাম উন্নয়ণ? আমরা কলকারখানা গড়ব না মন্দির মসজিদ গড়ব?। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মানুষকে ভুল বোঝানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। এবার ফের বিকল্প সরকার গড়বে বামফ্রন্টের মহা জোট’। এদিন ইন্দাসের ওই কর্মী সভায় দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছাড়াও বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

× How can I help you?