Saturday, October 16, 2021
Home রাজ্য হাওড়া ও হুগলি 'চুপচাপ পদ্মে ছাপ',বিজেপিতে যোগ দিয়েই স্লোগান রাজীবের।

‘চুপচাপ পদ্মে ছাপ’,বিজেপিতে যোগ দিয়েই স্লোগান রাজীবের।

'ফেব্রুয়ারির 2 তারিখ থেকে 20 তারিখের মধ্যে তৃণমূল ফাঁকা হয়ে যাবে',মন্তব্য শুভেন্দুর।

ডুমুরজলা, 31 জানুয়ারি : অমিত শাহ না থাকলেও রাজ্য রাজনীতির সবার নজর আজ হাওড়ায় । সভায় দিল্লি থেকে এসেছেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি । রয়েছেন রাজ্য বিজেপির একঝাঁক নেতা । গতকাল রাতে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব-বৈশালীদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন শুভেন্দু । পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধু রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের একসঙ্গে পাওয়ায় বৃত্ত সম্পূর্ণ হল বলেই মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারী ।

মঞ্চ থেকেই তৃণমূলকে ফাঁকা করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী । ডুমুরজলায় বিজেপির মেগা শো থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটকে কার্যত হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন শুভেন্দু । বললেন, “ফেব্রুয়ারির 2 তারিখ থেকে 20 তারিখের মধ্যে তৃণমূল ফাঁকা হয়ে যাবে ।”

তিনি বলেন, “2004 সাল থেকে রাজীবের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেছি । রাজীবের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়া রয়েছে । রাজীব আজ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বৃত্ত সম্পূর্ণ হল ।” পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির 200 টিরও বেশি আসন পাওয়ার কথা আরও একবার বলে রাখলেন শুভেন্দু ।

ডুমুরজলায় যখন রাজীব-বৈশালীদের পাশে নিয়ে শুভেন্দু একের পর এক কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন রাজ্যের শাসক দলকে, তখন কিছুটা হলেও স্নায়ুর চাপ অনুভব করছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ।

পাশাপাশি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলেও আশ্বাস দিয়ে রাখলেন শুভেন্দু ।

এদিন হাওড়াতে বাংলার মানুষের মন জয় করতে অমিত শাহ নিজের বদলে পাঠিয়েছেন স্মৃতি ইরানিকে । ডুমুরজলায় আজকের সভায় দিল্লির মুখ তিনিই । ডুমুরজলায় ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ছক্কা হাঁকালেন স্মৃতি । পোডিয়ামে এসে মাইক দু’টি একটু গুছিয়ে নিয়ে স্পষ্ট বাংলায় বললেন, “শুনতে পেরেছি দিদি এখন ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন… দিদিও এখন জানেন বাংলায় এখন পদ্মফুল ঘরে ঘরে ।” সঙ্গে সঙ্গে দর্শকাসন থেকে হাততালি । বললেন, “তৃণমূল যাচ্ছে, বিজেপি আসছে ।”

বাংলায় 138 জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি ইরানি । বললেন, “সোনার বাংলা গড়তে তাঁদের বলিদান বৃথা যাবে না ।” স্মৃতি ইরানির বক্তৃতায় আজ আবারও উঠে এল রাজ্যের শাসকদলের রাম-নামের ভয় । বললেন, “যিনি জয় শ্রীরাম ধ্বনিকেও অপমানিত করেন, সেই দলে কোনও দেশ-ভক্ত এক মিনিটের জন্যও থাকতে পারবেন না ।”

একইসঙ্গে বাংলার কৃষকরা যে বঞ্চনার শিকার, সেই কথাও তুলে ধরলেন তিনি । বললেন, “বাংলার কৃষকদের বঞ্চিত করছেন দিদি । পরিবর্তন হবেই, ঠিক করে নিয়েছেন বাংলার মানুষ ।” লকডাউনে সাধারণ মানুষের চাল-ডাল তৃণমূল লুট করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি ।

স্মৃতির পর ডুমুরজলায় রাজীব ব্যানার্জী বিজেপি নেতা হিসেবে প্রথম জনসভায় মানুষকে বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন স্লোগান তুললেন ‘চলুন পালটাই’।

ডুমুরজলার সভা থেকে বাংলায় উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালেন তিনি। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষের অনেক হতাশা। কিছু কাজ হয়েছে তবে অনেক কাজ এখনও করা বাকি। বেকার যুবক-যুবতীরা বাংলায় কাজ না-পেয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে সরকার কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। অমিত শাহকে বলেছি, মোদির সহায়তায় এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে বড় বড় আইটি সেক্টর নিয়ে আসব, অনুসারী শিল্প হবে। কাজ পাবে মানুষ। শ্রমিকরা কাজ পাবেন।”

তৃণমূলের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া করে বাংলায় উন্নয়ন আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজীব। তিনি বলেন, ”কেন্দ্রের সঙ্গে শত্রুতাই করে গেলে কী করে হবে? বামেরা ঝগড়া করেই 34 বছর কাটিয়েছে। বর্তমান সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া করে মানুষের উন্নয়নের জন্য টাকা আদায় করতে পারেনি। এটা কার ব্যর্থতা? কেন্দ্রে ও রাজ্যে এক সরকার হলে সোনার বাংলা গড়ে উঠবেই।” রাজীবের দাবি, আগামী দিনে ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যকে নতুন দিশা দেখাতে পারবে।

এ দিন রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারে সরকার ও পাড়ায় পাড়ায় সমাধান প্রকল্পকে তীব্র কটাক্ষ করেন রাজীব। বলেন, ”বাংলার মানুষ উন্নয়ন পাচ্ছে না, তার প্রমাণ ভোটের মুখে দুয়ারে দুয়ারে সরকার কর্মসুচি, পাড়ায় পাড়ায় সমাধান। তার অর্থ, এত দিন কোনও কাজ হয়নি। আমরা প্রথম দিন থেকে দুয়ারে দুয়ারে মানুষের কাছে পৌঁছবে। ভোটের মুখে হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। লিমিট 5 লাখ। এক কোটি পরিবারকে দিলে হয় 5 লাখ কোটি। সরকারের মোট বরাদ্দ কত? এটা ভাঁওতাবাজি। এই কার্ড কোনও কাজে লাগবে না। এদের সেই বাজেটই নেই।”

ভোটের স্বার্থেই সংখ্যালঘুদের বিজেপির জুজু দেখানো হচ্ছে বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একহাত নিয়েছেন রাজীব। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে জাত-ধর্মকে সরিয়ে রেখে সবার জন্য কাজ করা হবে। প্রত্যের বুথে, পাড়ায় গিয়ে প্রথম দিন থেকেই কাজ করবে বিজেপি। এ দিন বেশ কয়েকটি স্লোগানও তোলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের উদ্দেশে তাঁর ডাক, ‘চুপচাপ পদ্মে ছাপ’ ও ‘চলুন পালটাই।’

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

× How can I help you?